ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অবন্তিকার আত্মহত্যাঃ সর্বশেষ খবর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

অবন্তিকার আত্মহত্যাঃ সর্বশেষ খবর

গত ১৫ মার্চ শুক্রবার কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস এলাকায় নিজ গৃহে অবন্তিকার আত্মহত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবন্তিকা। মৃত্যুর আগে দুইজন কে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তাদের একজন হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এবং অপরজন হলেন তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান।

তার সহপাঠী আম্মান তাকে সবসময় হুমকি দিতো। এ ব্যাপারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ কিন্তু তিনিও এবিষয়ের কোনো সমাধান না করে উল্টো অফলাইনে এবং অনলাইনে হুমকি দিয়েছেন। অবন্তিকার আত্নহত্যার এ ঘটনার পর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে যাচ্ছে।

১৬ মার্চ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহপাঠী আম্মান কে বহিষ্কার করেছেন এবং দ্বীন ইসলামকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। দ্বীন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবন্তিকার বাবা মা – আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে আসামী করে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। পরে রাতেই অভিযোগকৃত আসামীদের গ্রেপ্তার করেন থানা পুলিশ।

এদিকে শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্নহত্যার ঘটনার তদন্ত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। কিন্ত তদন্তদের কোনো সঠিক গতিপথ এখনো বোঝা যায় নি। সবাইকে এক এক করে ডেকে কথা বলবেন তারা। তাই তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

অবন্তিকার আত্মহত্যা

আজ রবিবার রাত ৮ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করেন। তারা অভিযোগকারীদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা সহ উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেন। আর দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে।

অবন্তিকার মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি তারাও আরও কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, অভিযোগকৃতদের উপযুক্ত বিচার, আগে ঘটে যাওয়া এরকম ঘটনাগুলির দ্রুত বিচার, দ্রুততম সময়ে বিচারের জন্য যৌন নিপীড়ন দমন সেল গঠন, শিক্ষার্থীদের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, অবন্তিকার মত শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। এভাবে অবন্তিকারা মরতে থাকলে জাতি একসময় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

অবন্তিকার আত্মহত্যাঃ সর্বশেষ খবর

আপডেট সময় : ০১:৪৮:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মার্চ ২০২৪

গত ১৫ মার্চ শুক্রবার কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিস এলাকায় নিজ গৃহে অবন্তিকার আত্মহত্যা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অবন্তিকা। মৃত্যুর আগে দুইজন কে দায়ী করে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তাদের একজন হলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এবং অপরজন হলেন তার সহপাঠী রায়হান সিদ্দিকী আম্মান।

তার সহপাঠী আম্মান তাকে সবসময় হুমকি দিতো। এ ব্যাপারে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ কিন্তু তিনিও এবিষয়ের কোনো সমাধান না করে উল্টো অফলাইনে এবং অনলাইনে হুমকি দিয়েছেন। অবন্তিকার আত্নহত্যার এ ঘটনার পর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে যাচ্ছে।

১৬ মার্চ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহপাঠী আম্মান কে বহিষ্কার করেছেন এবং দ্বীন ইসলামকে প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিয়েছেন। দ্বীন ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবন্তিকার বাবা মা – আম্মান ও দ্বীন ইসলামকে আসামী করে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। পরে রাতেই অভিযোগকৃত আসামীদের গ্রেপ্তার করেন থানা পুলিশ।

এদিকে শিক্ষার্থী অবন্তিকার আত্নহত্যার ঘটনার তদন্ত করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার বৈঠক করেছেন। কিন্ত তদন্তদের কোনো সঠিক গতিপথ এখনো বোঝা যায় নি। সবাইকে এক এক করে ডেকে কথা বলবেন তারা। তাই তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

অবন্তিকার আত্মহত্যা

আজ রবিবার রাত ৮ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল বের করেন। তারা অভিযোগকারীদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা সহ উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেন। আর দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করার জন্য ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে।

অবন্তিকার মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি তারাও আরও কিছু দাবি উপস্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, অভিযোগকৃতদের উপযুক্ত বিচার, আগে ঘটে যাওয়া এরকম ঘটনাগুলির দ্রুত বিচার, দ্রুততম সময়ে বিচারের জন্য যৌন নিপীড়ন দমন সেল গঠন, শিক্ষার্থীদের জন্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ ইত্যাদি। শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, অবন্তিকার মত শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। এভাবে অবন্তিকারা মরতে থাকলে জাতি একসময় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।