ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শবে কদরের ফজিলত ও রহমত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

শবে কদরের ফজিলত

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। মুসলিমদের জন্য এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। আর এই মাসে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত যাকে আমরা শবে কদর বলে থাকি। শবে কদরের ফজিলত বলে শেষ করা যাবেনা। চলুন তার পরেও জেনে নেই এই রাতে মুসলমানদের জন্য কি কি উপহার রয়েছে।

শবে কদর শব্দটি ফারসি ভাষার। এর মানে হচ্ছে সম্মান, সম্ভাবনা বা ভাগ্যের রাত। আবার শবে কদরের আরবি হল লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের লাইলাতুল কদরের রাত অন্যান্য হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

শবে কদরের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন তোমরা রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। (বুখারী, ২০২০)

এ থেকে বোঝা যায় শবে কদরের একটি রাত পাওয়ার জন্য রাসূল (সা.) রমজানের শেষের দশ দিনকে বেছে নিয়েছিলেন। কারণ এই দশদিনের যে কোন একদিনই লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি।

শবে কদরের ফজিলত ও রহমত

রমজান মাস পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার মাস। আর শবে কদরের রাত হচ্ছে কুরআন নাযিলের রাত। এ রাতেই প্রথম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপর মহাগ্রন্থ কোরআন নাজিল হয়। এ রাতেই তিনি প্রথম হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এই কারণে মহান আল্লাহ তা’আলা শবে কদরের রাতের মর্যাদা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান। পবিত্র কুরআন মাজীদেও এই রাতকে বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শবে কদরের ফজিলত নিয়ে আরেকটি বর্ণনা হচ্ছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, ” যে ব্যক্তি শবে কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর কাছ থেকে বড় এবং ভালো লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার অতীত জীবনের সকল গুনা সমূহ মাফ হয়ে যাবে”। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

শবে কদর কবে?

সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা অনেক ক্লান্ত থাকি। কিন্তু তারপরেও আমরা যেন শবে কদর বা কিন্তু তারপরেও আমরা যেন শবে ফজিলতপূর্ণ রাতকে অবহেলা না করি। কারণ এই রাত আমাদের জীবনে আর ফিরে নাও আসতে পারে। তার আগে হয়তো আল্লাহ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। তাই বাস্তব জীবনকে কুরআন এবং সুন্নাহর আমলে সাজিয়ে এ রাতে আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শবে কদরের ফজিলত ও রহমত

আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। মুসলিমদের জন্য এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ মাস। আর এই মাসে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত যাকে আমরা শবে কদর বলে থাকি। শবে কদরের ফজিলত বলে শেষ করা যাবেনা। চলুন তার পরেও জেনে নেই এই রাতে মুসলমানদের জন্য কি কি উপহার রয়েছে।

শবে কদর শব্দটি ফারসি ভাষার। এর মানে হচ্ছে সম্মান, সম্ভাবনা বা ভাগ্যের রাত। আবার শবে কদরের আরবি হল লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের লাইলাতুল কদরের রাত অন্যান্য হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

শবে কদরের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেন তোমরা রমজান মাসের শেষ ১০ দিনে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। (বুখারী, ২০২০)

এ থেকে বোঝা যায় শবে কদরের একটি রাত পাওয়ার জন্য রাসূল (সা.) রমজানের শেষের দশ দিনকে বেছে নিয়েছিলেন। কারণ এই দশদিনের যে কোন একদিনই লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি।

শবে কদরের ফজিলত ও রহমত

রমজান মাস পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হওয়ার মাস। আর শবে কদরের রাত হচ্ছে কুরআন নাযিলের রাত। এ রাতেই প্রথম প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপর মহাগ্রন্থ কোরআন নাজিল হয়। এ রাতেই তিনি প্রথম হেরা পর্বতের গুহায় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে হযরত জিব্রাইল (আঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এই কারণে মহান আল্লাহ তা’আলা শবে কদরের রাতের মর্যাদা অনেক বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের সমান। পবিত্র কুরআন মাজীদেও এই রাতকে বরকতময় রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শবে কদরের ফজিলত নিয়ে আরেকটি বর্ণনা হচ্ছে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন, ” যে ব্যক্তি শবে কদরে ঈমান সহকারে ও আল্লাহর কাছ থেকে বড় এবং ভালো লাভের আশায় ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, তার অতীত জীবনের সকল গুনা সমূহ মাফ হয়ে যাবে”। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)

শবে কদর কবে?

সারাদিন রোজা রাখার পর আমরা অনেক ক্লান্ত থাকি। কিন্তু তারপরেও আমরা যেন শবে কদর বা কিন্তু তারপরেও আমরা যেন শবে ফজিলতপূর্ণ রাতকে অবহেলা না করি। কারণ এই রাত আমাদের জীবনে আর ফিরে নাও আসতে পারে। তার আগে হয়তো আল্লাহ ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। তাই বাস্তব জীবনকে কুরআন এবং সুন্নাহর আমলে সাজিয়ে এ রাতে আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করার তৌফিক দান করুন। আমিন।